Logo Logo

নীলফামারীতে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের চেষ্টা, থানায় মামলা


Splash Image

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জয়নাল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তের পরিবার জোরপূর্বক গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জলঢাকা থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা।


বিজ্ঞাপন


অভিযুক্ত জয়নাল হোসেন উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বেরুবন্দ কার্টুন পাড়া এলাকার মৃত ফয়নুদ্দীনের ছেলে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের কার্টুন পাড়ায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে রাতে ওই কিশোরী ঘরের কাজ করার সময় তার কক্ষে ঢুকে পড়ে প্রতিবেশী জয়নাল হোসেন। ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে দূরের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। পরবর্তীতে এই ঘটনা জানাজানি হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

এভাবে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হওয়ায় একপর্যায়ে কিশোরীটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকরা জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই পুরো বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়।

ভুক্তভোগীর বাবা জাহাঙ্গীর আলম জলঢাকা থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় অভিযুক্তের পরিবার। গত ৫ জুন (২০২৬) রাতের বেলায় জয়নাল হোসেনের স্ত্রী রূপালী বেগম (৪০) এবং তার শ্যালক দুলু মিয়া (৩০) ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়িতে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। সে সময় কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর থেকে বিষয়টি গোপন রাখতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারটি দৈনিক ভোরের বাণী প্রতিনিধিকে জানান, তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা আইনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই জঘন্য অপরাধের কঠোর ও ন্যায়বিচার কামনা করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জয়নাল হোসেন, তার স্ত্রী রূপালী ও শ্যালক দুলু মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, "ধর্ষণের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...