বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে রাজধানীর ডেমরা পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম-পূর্ব) পুলিশ লাইনস থেকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তিনি মাত্র ৯ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিওএম ভবনের সপ্তম তলার একটি কক্ষে আরও কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে থাকতেন সাইদুল। তবে ঘটনার সময় অন্য সদস্যরা দায়িত্ব পালনের জন্য কক্ষের বাইরে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সহকর্মীরা কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা মো. সোহাগ গণমাধ্যমকে জানান, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে সাইদুল কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর হতাশার মধ্যে ছিলেন বলে পরিবারের ধারণা।
ঘটনার পর সাইদুলের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডির সর্বশেষ পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসে তিনি তাঁর ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য জীবন, বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও তীব্র হতাশার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি নিজের বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, তিনি আর এই কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না। এর আগে গত ২৬ জুন প্রকাশিত আরেকটি পোস্টেও তিনি দাম্পত্য জীবনের সংকট, মিথ্যা অপবাদ এবং একাকীত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...