বিজ্ঞাপন
আগামীকাল রোববারের (১৯ জুলাই) সেই বহুল প্রতীক্ষিত মেগা ফাইনাল। যেখানে শিরোপার জন্য মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় জায়ান্ট স্পেন। আর এই মেগা ফাইনালের ঠিক একদিন আগে ক্রীড়াভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য অ্যাথলেটিক' প্রকাশ করেছে বিশ্বকাপের প্রাইজমানির চমকপ্রদ সব খুঁটিনাটি।
গত বছরের ডিসেম্বরেই ফিফা এবারের আসরের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি) প্রাইজ ফান্ডের ঘোষণা দিয়েছিল। যা কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
রোববারের মেগা ফাইনালে যারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে, সেই দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ৫ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬১৬ কোটি টাকার বেশি)। অন্যদিকে, রানার্স-আপ দল ঘরে তুলবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (৪০৬ কোটি টাকা)। কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এবার চ্যাম্পিয়ন দল গতবারের চেয়ে ৮০ লাখ ডলার বেশি পাচ্ছে।
আজ শনিবারের (১৮ জুলাই) হাইভোল্টেজ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে যারা জিতবে (তৃতীয় স্থান) তারা পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা) এবং পরাজিত দল (চতুর্থ স্থান) পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (৩৩৩ কোটি টাকা)।
এ ছাড়া টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ:
কোয়ার্টার ফাইনাল (বিদায়ী ৪ দল): মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে।
রাউন্ড অব ১৬ (বিদায়ী ৮ দল): প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে।
রাউন্ড অব ৩২ (বিদায়ী ১৬ দল): প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে।
গ্রুপ পর্ব (বিদায়ী ১৬ দল): প্রত্যেকে পাচ্ছে ৯০ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ দিনের এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্যই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিত ছিল। কারণ, গ্রুপ পর্বের প্রাইজমানির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তুতি খরচ বাবদ দেওয়া হয়েছে আরও ১৫ লাখ ডলার করে।
ফিফা এই প্রাইজমানির পুরো অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফেডারেশনকে (যেমন আর্জেন্টিনার AFA বা স্পেনের RFEF) প্রদান করে। এরপর ফেডারেশনগুলো সিদ্ধান্ত নেয় এর কত অংশ খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের বোনাস হিসেবে দেওয়া হবে। প্রাইজমানির বাকি অংশ সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবলের তৃণমূলের উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হয়।
ফিফা একটি অলাভজনক সংস্থা হলেও, ৪৮ দলের এই বিশাল বিশ্বকাপ থেকে তাদের রেকর্ড ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারেরও বেশি রাজস্ব আয়ের প্রক্ষেপণ ছিল। সেই হিসেবে মোট আয়ের মাত্র ৬.৫ শতাংশ অর্থ দলগুলোর প্রাইজমানি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
রাজস্বের এই অভাবনীয় বৃদ্ধি ফিফার চার বছরের চক্রের (সাইকেল) মোট আয়কে রেকর্ড ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা) নিয়ে ঠেকাবে। যা ২০২২ বিশ্বকাপসহ আগের চার বছরের চক্রের আয় (৭.৬ বিলিয়ন ডলার) থেকে প্রায় দ্বিগুণ।
ফিফা প্রথম জনসমক্ষে প্রাইজমানির হিসাব প্রকাশ করা শুরু করে ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে। সেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার! আর পুরো টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানিই ছিল মাত্র ২ কোটি ডলার। ৪৪ বছর পর এসে সেই হিসাব বদলে গেছে পুরোপুরি; এবারের চ্যাম্পিয়নরা ১৯৮২ সালের ইতালির চেয়ে প্রায় ২০ গুণেরও বেশি টাকা পাচ্ছে।
রোববারের ফাইনালে বিজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের প্রত্যেকের গলায় উঠবে ঐতিহাসিক সোনার মেডেল। একইভাবে রানার্স-আপ দল পাবে রুপার মেডেল এবং শনিবারের তৃতীয় স্থান জয়ী দল পাবে ব্রোঞ্জের মেডেল। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ম্যাচ অফিসিয়ালরাও ফাইনাল শেষে মেডেল পেয়ে থাকেন।
দলগত ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি ফাইনাল শেষে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পুরস্কারও দেওয়া হবে। সেরা খেলোয়াড় পাবেন 'গোল্ডেন বল' এবং সেরা গোলরক্ষক পাবেন 'গোল্ডেন গ্লাভস'। তবে এবার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট'-এর লড়াইটি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চে রূপ নিয়েছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম কিংবা হ্যারি কেইন—সবাই আছেন গোলবন্যার দুর্দান্ত ফর্মে। তবে ব্যক্তিগত এই সম্মানজনক ট্রফিগুলোর সঙ্গে ফিফার পক্ষ থেকে কোনো বাড়তি অর্থ বা প্রাইজমানি থাকে না।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...