Logo Logo

চোর ধরতে ছাত্রদল নেতাদের অভিনব কৌশল, উদ্ধার ২ চোরাই মোটরসাইকেল


Splash Image

নোয়াখালী সদর উপজেলায় অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জোড়া চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন ছাত্রদলের দুই নেতা ও তাদের বন্ধুরা। পরবর্তীতে ঘটনায় সম্পৃক্ত আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


আটককৃতরা হলেন— দক্ষিণ হাতিয়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরলিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। পুলিশের ভাষ্যমতে, তারা দুজনেই সক্রিয়ভাবে একটি আন্তঃজেলা বাইক চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে সাহসিকতা দেখানো ছাত্রদল নেতারা হলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল পাটোয়ারী ফারহান ও ইমদাদ উল্যাহ পরশ। তারা দুজনেই স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল ১০টায় নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর সুপার মার্কেটের সামনে থেকে ছাত্রদল নেতা ফারহান ও পরশের বন্ধু জয়দেব নাথের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরবর্তীতে অজ্ঞাত স্থান থেকে এক ব্যক্তি জয়দেবকে ফোন দিয়ে জানায়, বাইকটি বিক্রির উদ্দেশ্যে তার নিকট আনা হয়েছিল; তবে কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হওয়ায় সে না কিনে ফোন করেছে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বাইক ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে একটি বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা আদায় করলেও বাইক ফেরত না দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

দীর্ঘদিন পর গত ১৪ জুলাই চোরকে ফাঁদে ফেলতে নতুন কৌশল আঁকেন ফারহান ও পরশ। তারা ভিন্ন নম্বর থেকে যোগাযোগ স্থাপন করে তাকে মাইজদী নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিশ্চিত করেন। এরপর ফারহান, পরশ, ইমন ও ক্ষতিগ্রস্ত বাইক মালিক জয়দেব ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেস্তোরাঁয় কৌশলে ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেন এবং পূর্বের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিকাশ লেনদেনের তথ্য দেখালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘাবড়ে যান।

নিজে বাঁচতে অভিযুক্ত ব্যক্তি মূল চোরের কথা স্বীকার করলে, কৌশলে চোর চক্রের অপর সদস্য জাহাঙ্গীরকে টাকা দেওয়ার বাহানায় ডেকে আনা হয়। জাহাঙ্গীর অন্য একটি বাইকে চড়ে উপস্থিত হলে চার বন্ধু মিলে দুজনকেই হাতেনাতে ধরে সোনাপুরে নিয়ে যান। একই সময়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার আবু নাছের মঞ্জুর গত ১২ জুলাই পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটির সঙ্গে তাদের আনা বাইকটির মিল পাওয়া যায়।

তারা মোটরসাইকেলটির গায়ে থাকা নোয়াখালী হোন্ডা গ্যালারির কাগজ দেখে সংশ্লিষ্ট শোরুমে ফোন করে ক্যাশ মেমো সংগ্রহ করেন। ক্যাশ মেমোতে মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জুর নাম ও বিবরণ দেখে তাকে তাৎক্ষণিক ফোন করে বিষয়টি জানান তারা। খবর পেয়ে আবু নাছের মঞ্জু সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফখরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুই চোরকে হেফাজতে নেয়।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর একটি বিপজ্জনক আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সাথে যুক্ত। ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। চক্রটি দেশের এক জেলা থেকে বাইক চুরি করে অন্য জেলায় বিক্রি করত। সংশ্লিষ্ট চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গত শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...