বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফয়েজ আহমেদ হত্যা মামলার ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি ওসমান (২৩), ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি শহিদুল ইসলাম শাওন (২৫) এবং দুটি সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. মোস্তাফা কামাল।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার হাজারীবাগ, গাজীপুর এবং ভোলায় পরিচালিত পৃথক যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী শাখা র্যাব-২, র্যাব-১ এবং র্যাব-৮-এর যৌথ দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ঢাকার হাজারীবাগ থানাধীন গজমহল রোড থেকে ফয়েজ হত্যা মামলার আসামি ওসমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ভোলার ভেলুমিয়া এলাকা থেকে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোস্তাফা কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ৫ মিনিটে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম হত্যা মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম শাওনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
ঘটনার বিবরণে র্যাব জানায়, গত ১১ জুন রাতে সোনাইমুড়ীর নদোনা ইউনিয়নে নিজ বাড়ির সামনে কথা বলার সময় পূর্ববিরোধের জেরে ফয়েজ আহমেদ ও তার সঙ্গে থাকা দুজনকে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তাদের অন্য স্থানে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নির্যাতন চালানো হলে ফয়েজ আহমেদ গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে 'মিতালী বেকারি' পরিচালনা করতেন। লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে বেকারি থেকে ডেকে বের করে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর ভোরে তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত মোস্তাফা কামালের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার দুটি পৃথক মামলায় আদালত ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বমোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামি ওসমানকে ঢাকার হাজারীবাগ থানায়, শহিদুল ইসলাম শাওনকে সোনাইমুড়ী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে এবং মোস্তাফা কামালকে ভোলা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...