বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো কখনো দিনের পর দিন সড়কে পানি জমে থাকে। এতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
শত্রুজিৎপুর কলেজ রোড এলাকায় রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য বসতবাড়ি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই রাস্তাজুড়ে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে পৌঁছাতে চরম কষ্ট করতে হয়। অনেক অভিভাবক ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে বা বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় দোকানগুলোতে বিক্রি কমে যাচ্ছে, অনেক সময় দোকানের সামনেও পানি জমে থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক সমস্যা। পানির নিচে রাস্তার গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান দেখা যায়নি। তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হলে এই দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কারণ এই সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। এর উন্নয়ন শুধু স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শত্রুজিৎপুর কলেজ রোডের জলাবদ্ধতা এখন আর শুধু একটি মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি জনদুর্ভোগের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
প্রতিবেদক- মোঃ রাজিব হোসেন, মাগুরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...