বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বাসন্ডা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়্যেদা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিযানে নৌ পুলিশের একটি দলও সহযোগিতা করে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে নদী থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের ১০টি নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল এবং ১৮ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ‘বাঁধা জাল’ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযান শেষে জব্দ করা জালগুলো ঝালকাঠি শহরের গুরুধাম এলাকায় নিয়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়, যাতে সেগুলো আর কোনোভাবেই ব্যবহার করা না যায়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, “দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ক্ষতিকর অবৈধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় জেলার নদ-নদী ও জলাশয়ে অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ উপায়ে মাছ শিকার এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ ও ‘বাঁধা জাল’ ব্যবহারের ফলে মাছের ডিম, পোনা এবং ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এ কারণে এসব জালের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...