বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (বিচার শাখা-১) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপপরিচালক (প্রশাসন-১) এ. এফ. এম. গোলজার রহমান।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে গোপালগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজন মিয়াকে (আইডি: ২০২৪২১৬০৬২) অবিলম্বে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে আইন ও বিচার বিভাগে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশ আদালতে ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। ওই আদেশ অনুযায়ী বিচারক মো. সুজন মিয়াকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২ নম্বর এজলাসে নজিরবিহীন এ ঘটনা ঘটে। বিচার কার্যক্রম চলাকালে এজলাসে উপস্থিত লোকজনের শোরগোল বন্ধ করতে গিয়ে বিচারক মো. সুজন মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের টেবিলে থাকা একটি পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন। সেটি গিয়ে আঘাত করে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করছিলেন এমন শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত সাবিহা সুলতানাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
পরবর্তীতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিচারক মো. সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এদিকে আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবীর সিনিয়র এবং গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. জুলকদর রহমান এ সিদ্ধান্তে আইনজীবীদের সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত বিচারক তার প্রাপ্য শাস্তিই পেয়েছেন। তবে কেবল প্রত্যাহার নয়, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...