বিজ্ঞাপন
‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত সোমবার (২০ জুলাই) পৌনে ১২টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষি অফিস চত্বরে তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয়। মেলাটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা সুলতানা।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ফল মেলায় উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাত্র একটি স্টল দেওয়া হয়েছিল, যেখানে কিছু দেশি-বিদেশি ফল প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। উদ্বোধনের দিন সরকারি প্রণোদনা নিতে আসা কয়েকজন কৃষকের উপস্থিতি দেখা গেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন মেলা প্রাঙ্গণ ছিল সম্পূর্ণ দর্শনার্থীশূন্য। সাধারণ মানুষের কোনো প্রচার-প্রচারণা কিংবা আগ্রহ না থাকায় মেলাটি মূলত লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মেলায় আসা উৎসুক দর্শনার্থীদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের একটি দিবস বা মেলা আয়োজনের জন্য সরকারিভাবে তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে সচেতন ও উৎসাহিত করার জন্য। কিন্তু সঠিক প্রচারণা ও উদ্যোগের অভাবে তিন দিনের মেলা প্রাঙ্গণ ফাঁকা পড়ে ছিল। এই ধরণের দায়সারা মেলা আয়োজন করে কেবল সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
মেলায় দর্শনার্থী না থাকা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন বলেন, “প্রণোদনা নিতে আসা কৃষকরা ফল মেলা উপভোগ করেছেন। অনেকেই আসছেন, দেখে চলে যাচ্ছেন। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি আসার কারণে অনেকেই আসতে পারছেন না।”
তবে জানা গেছে, মেলা চলাকালীন সময়ে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের নির্দেশনামূলক কাজে ব্যস্ত থাকায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের অধিকাংশ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন ছাড়াও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জীবন ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা জনস্বাস্থ্যের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিঠুন কুমার রায় এবং একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুক হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...