Logo Logo

ঝালকাঠিতে মহাসড়ক খুঁড়ে সুড়ঙ্গে ড্রেজারের পাইপ, সড়ক ধসের আশঙ্কা


Splash Image

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খোজাখালি এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন নলছিটি-বরিশাল প্রধান আঞ্চলিক মহাসড়কের নিচে অবৈধভাবে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ড্রেজারের পাইপ বসানোর অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই পাইপের মাধ্যমে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে, যার ফলে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার নদীতীরঘেঁষা এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, খোজাখালি এলাকার নদীর তীরজুড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক বালুর খোলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব খোলার অধিকাংশই কোনো ধরনের দাপ্তরিক অনুমতি না নিয়ে মহাসড়কের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করেছে। সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে 'বন্ধন ট্রেডার্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের নিচে নতুন করে গভীর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে আরও একটি ড্রেজারের পাইপ বসিয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এলাকাবাসীর দাবি, নলছিটি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অগণিত ভারী যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের তলদেশে এভাবে সুড়ঙ্গ তৈরি করায় ভারী যান চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে রাস্তা ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার ফলে সরকারি সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।

অবশ্য সুড়ঙ্গ তৈরির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন 'বন্ধন ট্রেডার্স'-এর স্বত্বাধিকারী তানজীর হোসেন। তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হয়নি। উল্লেখ্য, তিনি বালু ব্যবসার পাশাপাশি একটি বেসরকারি ব্যাংকেও কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রিজভী আহমেদ সবুজ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাইপটি পূর্বে করা হয়েছিল এবং রাস্তার অপর পাশের পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে এ কাজের জন্য প্রশাসন বা সওজের কোনো বৈধ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উক্ত পাইপ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু সরবরাহ করা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আল-আমীন বলেন, সওজ বিভাগ থেকে মহাসড়ক খুঁড়ে পাইপ বসানোর কোনো অনুমতি প্রদান করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি একটি কাজ। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নদীভাঙন কবলিত এই অঞ্চলের একমাত্র মূল সড়কটি রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধভাবে বসানো সব ড্রেজারের পাইপ অপসারণ, সড়কের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জঘন্য এই কর্মকাণ্ডে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...