বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে দিনের কর্মসূচির শুরুতেই তাদের হাতে এই বিশেষ নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনেরই জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে পা দিয়ে লিখে তারা উচ্চশিক্ষা ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে নীলা খাতুনকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর শেষ করা আয়শা আক্তার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মুখ দিয়ে তার নিয়োগপত্রটি গ্রহণ করেন। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং তাদের স্বাবলম্বী করাই এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
এদিকে, তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে চাকরি প্রদানের এই মানবিক উদ্যোগকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। অনুষ্ঠান শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই উদ্যোগের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের এমন পদক্ষেপ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...