Logo Logo

মনোহরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা


Splash Image

নরসিংদীর মনোহরদীতে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া (৪৫) নামে ওই নেতা মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। নিহত মিজান মিয়া গ্রামের সফুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে ও নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির পাশের একটি চলাচলের রাস্তা ও ভিটে জমি নিয়ে মিজান মিয়ার সাথে তার চাচা শহীদুল্লাহর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি সুরাহার জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

শনিবার দুপুরে ওই বিরোধপূর্ণ রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চাচার ছেলে জীবন মিয়া হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠ বা বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মিজান মিয়ার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি মারাত্মক জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মিজানকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মূল অভিযুক্ত জীবন মিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহর ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। রাজনীতি ও জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, "প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চাচা-ভাতিজার মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...