বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত ফারুকের হেফাজত থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন, রুপার গলার চেইন, এক জোড়া জুতা এবং বাসার চুলা থেকে আংশিক পোড়ানো অবস্থায় শাম্পার একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়।
ফারুক খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার রতন মোল্লার ছেলে এবং বর্তমানে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি ঝোপের কাছ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে তার পরিচয় নিশ্চিত করে।
নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম মরদেহটি তার মেয়ে শম্পা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শম্পার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে আবির নামের এক বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মেয়ে হত্যার খবরের পাশাপাশি তার এক বছরের নাতি আবিরও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ ও র্যাবের একটি যৌথ দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাখরেরকান্দি এলাকার নিজ বাসা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে চিকিৎসা পরীক্ষার প্রতিবেদন ও আলামত পর্যালোচনার কাজ চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফারুক শম্পাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। একই সাথে তিনি জানান, হত্যার পর শম্পার এক বছর বয়সী শিশুপুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। নিখোঁজ শিশু আবিরকে উদ্ধারে নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জেলায় যেকোনো ধরণের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...