বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ ৩ ঘণ্টাব্যাপী এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সাখাওয়াত হোসেন ও এএসপি হাসানের যৌথ নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে শাখাটির ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ মঞ্জুকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। একই সাথে ওই কার্যালয় থেকে অবৈধ লেনদেনের বিপুল পরিমাণ আলামত হিসেবে বেশ কিছু রশীদ বই, রেজিস্টারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আইনি নিয়ম অনুযায়ী কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে নগদ অর্থ আদান-প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও এস এ পরিবহন দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের অর্থ লেনদেনে সহযোগিতা করে আসছিল। মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখতে টাকা পাঠানোর সময় প্রেরকের কোনো পরিচয়পত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি সংগ্রহ করা হতো না।
এ ছাড়া কুরিয়ার কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ মঞ্জু নিজ বাসভবনে বসে এসব অনৈতিক অর্থ লেনদেন পরিচালনা করতেন। এ কাজে সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের বিশেষ রশীদ বই ব্যবহার করা হতো।
জব্দকৃত রশীদ বই ও রেজিস্টার পর্যালোচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে যে, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে অভিযান পরিচালনার দিন পর্যন্ত এই গোপন ও বেআইনি উপায়ে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত একটি রশীদ বইয়ে ৩৬ লাখ টাকা এবং অপর একটিতে ৩০ লাখ টাকা পাঠানোর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকৃত রশীদ বইয়ে প্রেরক ও প্রাপকের নাম-ঠিকানা লেখা থাকলেও অপরাধ চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এবং সামগ্রিক তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মূল নির্দেশদাতা জড়িত রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে আটক শাখা ম্যানেজারকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...