Logo Logo

ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে শাহবাজ শরিফকে সাবেক অধিনায়কদের চিঠি


Splash Image

১৯৯২ সালের ২৫ মার্চ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা সেই ৩৯ বছরের চিরতরুণ অধিনায়ক আজ জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ। পাকিস্তানের ক্রিকেটের সেই অবিসংবাদিত নায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের এক নিভৃত কুঠুরিতে বন্দী। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব হয়েছেন তাঁর একসময়ের বাইশ গজের সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা।


বিজ্ঞাপন


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে দেওয়া এক যৌথ চিঠিতে ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। চিঠিতে তাঁরা পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও তাঁর বোন ডা. উজমা খানের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন এবং পরিবারের সাথে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগের কথা বলা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবেক অধিনায়কদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং আদালতের নির্ধারিত বোর্ডের বদলে রাষ্ট্রনিযুক্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে দ্রুত ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করে তাঁকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়। চিঠিতে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি তোলা হয়েছে—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা (বিশেষ করে ডান চোখের চিকিৎসার বিষয়ে), প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়া পরিবারের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করা।

গত ছয় মাসের ব্যবধানে এটি সাবেক অধিনায়কদের দ্বিতীয় উদ্যোগ। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ১৪ জন অধিনায়ক একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে এবার আরও সাতজন যুক্ত হয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ক্লাইভ লয়েড, সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, অ্যালান বোর্ডার, স্টিভ ওয়াহ, মাইকেল আথারটন, নাসেন হুসেইন, অর্জুনা রানাতুঙ্গা এবং নারী ক্রিকেটের কিংবদন্তি বেলিন্ডা ক্লার্কের মতো তারকারা। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়; বরং একজন সাবেক সহখেলোয়াড়ের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৭১ বছর বয়সী ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একাধিক মামলায় দণ্ডাদেশ পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁর বিচার ও কারাবন্দী অবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে 'ডেথ সেল'-এ রেখে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হলেও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তা বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...