বিজ্ঞাপন
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে এক উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ পদযাত্রা ও রোডমার্চের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের বিশাল গাড়িবহর চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
লংমার্চ শুরুর আগে শাপলা চত্বরে আয়োজিত প্রারম্ভিক সমাবেশে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলেও বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সরকার কার্যত গোটা দেশ ও সাধারণ জনগণের সাথে প্রকাশ্য প্রতারণা করছে। একই সঙ্গে দেশের ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারা এবং নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তারা নিজেদের একটি পুরোপুরি ব্যর্থ সরকার হিসেবে প্রমাণ করেছে।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, “একটি দেশে জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় কার্যকর করার জন্য ছয় দিনই যথেষ্ট সময়। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সেই কাঙ্ক্ষিত গণরায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। জনগণের মতামত ও অধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকার মূলত জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। জনগণের এই রায়কে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ধৃষ্টতার সমুচিত জবাব এ দেশের সাধারণ মানুষ যথাসময়ে ব্যালট ও রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে দিয়ে দেবে।”
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনকে দলীয়করণ করে সর্বত্র একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা হয়েছে। বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে এবং মানুষের সাংবিধানিক বাকস্বাধীনতা হরণ করে ফ্যাসিবাদের আদলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে।
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, কৃষকের সারের হাহাকার এবং চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রান্তিক জনপদ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি আজ চরমভাবে নাজেহাল।
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যদি অনতিবিলম্বে ৬ দফা গণদাবি মেনে নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে না আনা হয়, তবে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর লালদীঘির ময়দান থেকে সরকার পতনের লাগাতার বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে শাপলা চত্বর থেকে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রামমুখী কাফেলা সড়কপথে রওনা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...