Logo Logo

সরকার লংমার্চে বাধা দিলে ৬ দফা ১ দফায় পরিণত হবে: নাহিদ ইসলাম


Splash Image

সরকার যদি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান অহিংস কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অপচেষ্টা চালায়, তবে বর্তমান ৬ দফা দাবি সরাসরি ‘এক দফা’ অর্থাৎ সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপ নেবে বলে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার সুবিচার নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের রাশ টানাসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ৬ দফা দাবিতে এই লংমার্চের ডাক দেয় ১১ দলীয় ঐক্য জোট।

সমাবেশে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যতই বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লংমার্চের কাফেলা ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবেই। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট সারা দেশের আপামর জনতা ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছিল। আজ আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে লংমার্চ শুরু করেছি নতুন করে যেন কেউ নতুন পোশাকে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে আবির্ভূত হতে না পারে, সেই পথ স্থায়ীভাবে রুদ্ধ করার জন্য।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই পদযাত্রা কোনো সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; বরং দেশজুড়ে সক্রিয় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। একই সঙ্গে যারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এটি সাধারণ মানুষের সরাসরি অবস্থান।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “দেশের ৭০ শতাংশ সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও ঐতিহাসিক গণরায়ের সাথে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আজকের এই প্রতিরোধ। এটি কেবল ১১টি রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মসূচি নয়; এটি বাংলাদেশের ১৮ কোটি শোষিত ও মেহনতি মানুষের মুক্তির লংমার্চ।” তিনি দেশবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে পুনরায় সতর্ক করে বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। কিন্তু সরকার যদি ফ্যাসিবাদী কায়দায় শক্তি প্রয়োগ বা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে এই ছয় দফা আর ছয় দফায় থাকবে না; তা তৎক্ষণাৎ বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক দফায় রূপ নেবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”

শাপলা চত্বরের এই জমকালো উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৭টায় শাপলা চত্বর থেকে হাজারো গাড়িবহর নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে মহাসড়ক ধরে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। অবশেষে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত মহাসমাবেশের মাধ্যমে এই দীর্ঘ পদযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...