বিজ্ঞাপন
দিনটি উপলক্ষে শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) নড়াইল জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী কোরআনখানি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার সকালে বীরের স্মৃতিবিজড়িত ‘নূর মোহাম্মদ নগর’-এ কোরআনখানির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ১০টায় একটি সুসজ্জিত শোক র্যালি বের হয়ে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে নড়াইল জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ মহাবিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে পুলিশের একটি চৌকস দল মহান এই বীর সেনানীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এরপর বিশেষ মোনাজাতে বীরশ্রেষ্ঠের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
পরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার মিলনায়তনে এক স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বীরশ্রেষ্ঠের রণাঙ্গনের বীরত্বগাথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি. এম. রাহসিন কবির, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম মাহবুবুর রশিদ লাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠের একমাত্র ছেলে শেখ মো. মোস্তফা কামাল এবং নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত অবস্থায় সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। মারাত্মক আহত হয়েও তিনি একাই মেশিনগান চালিয়ে শত্রুপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন, যেন তাঁর সঙ্গীরা নিরাপদে সরে যেতে পারেন। বক্তারা মহান এই বীরের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চণ্ডীবরপুর ইউনিয়নের তৎকালীন মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মাতা জেন্নাতুন্নেছা। শৈশবে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে তিনি ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে মাতৃভূমির ডাকে সাড়া দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে।
বীরের স্মৃতি রক্ষার্থে ২০০৮ সালে তাঁর জন্মভূমি মহিষখোলা গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ রাখা হয়। জেলা পরিষদের অর্থায়নে তাঁর বসতভিটায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রায় ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। এ ছাড়া তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২০০৫ সালে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে এমপিওভুক্ত হয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...