বিজ্ঞাপন
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) পেয়ার আহমেদ। এর আগে, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৌমুহনী বাজারের ডালিয়া মার্কেটে অবস্থিত ‘রাজ আবাসিক হোটেল’ ও পার্শ্ববর্তী ‘রিলাক্স আবাসিক হোটেলে’ এই পৃথক ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী বাজারের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এসআই মো. আনোয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল ডালিয়া মার্কেটের রিলাক্স আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার দায়ে ইমাম হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিসহ ৫ জন নারীকে আটক করা হয়।
এর আধা ঘণ্টার ব্যবধানে, বিকেল ৫টার দিকে একই মার্কেটের রাজ আবাসিক হোটেলে এসআই মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে আরেকটি দল দ্বিতীয় দফা অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে আরমান হোসেন (২২), নাছির উদ্দিন (৩২), মিজানুর রহমান (২২), মোজাম্মেল হোসেন (২০), রাকিব হোসেন (১৯) নামের পাঁচ তরুণ এবং আরও ৭ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুটি হোটেল মিলিয়ে মোট ১৮ জনকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) পেয়ার আহমেদ জানান, সামাজিক শৃঙ্খলা ও পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখতে আবাসিক হোটেলগুলোতে যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, চৌমুহনীর মতো ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ভবিষ্যতে এমন অসামাজিক তৎপরতা রোধে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...