বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের সার্কিট হাউস রোডে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩০ জন উদ্যোক্তার হাতে তৈরি মুক্তা ও ঝিনুকের অলংকার এবং শো-পিচ প্রদর্শন করা হয়।
দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৫ দিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শেষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রকল্প পরিচালক মো. খালিদুজ্জামান জানান, ২০২১ সালের মার্চ মাসে গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়। এর আওতায় তিন বিভাগের ১০ জেলার ৫২টি উপজেলায় ঝিনুকে মুক্তা চাষের ২০০টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে, যা এখনও চলমান। এসব কার্যক্রম থেকে এক লাখ ইমেজ মুক্তা ও বিপুল পরিমাণ ঝিনুক উৎপাদিত হয়েছে। দেশে ও বিদেশে মুক্তা ও ঝিনুকের অলংকার এবং শো-পিচের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অলংকার তৈরির ওপর আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের ঝিনুকে মুক্তা চাষ, মুক্তা উৎপাদন ও সংগ্রহ, অলংকার তৈরি এবং বাজারজাতকরণের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ব্যবহারিক কাজে অংশ নিয়ে নিজেরাই মুক্তা ও ঝিনুকের অলংকার এবং শো-পিচ তৈরি করে প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করেন। প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে উদ্যোক্তারা সহজেই হস্তশিল্প গড়ে তুলতে পারবেন। এতে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও পণ্য রপ্তানি সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ফেরদৌস সিদ্দিকী বলেন, মুক্তার অলংকার তৈরিতে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আবাসিক প্রশিক্ষণ। উদ্যোক্তা নির্বাচন সঠিক হওয়ায় তারা দ্রুত প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো আত্মস্থ করতে পেরেছেন এবং প্রদর্শনীতে মানসম্মত পণ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মুক্তার অলংকারে এসব উদ্যোক্তার সুদিন আসবেই।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ প্রশিক্ষণ তাদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শারমিন হক রিমা বলেন, প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি মুক্তার অলংকার তৈরি করে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশি বাজার ধরতে চান। আশিকুল ইসলাম বলেন, ঝিনুকের কোনো অংশই ফেলনা নয়—মুক্তা, খোলস ও পাল্প সবকিছুরই অর্থনৈতিক ব্যবহার রয়েছে। সুবর্ণা আক্তার জানান, বাড়ি ফিরে তিনি এ খাতে উদ্যোগ নেবেন এবং সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে আরও অনেককে এই সম্ভাবনাময় কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...