বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপরা, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি ও কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ডলফিনটি অন্তত এক দিন আগেই মারা গেছে।
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপরা’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, “সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ডলফিনটি তীরে ভেসে এসেছে। শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, কাছে যাওয়া কঠিন ছিল।”
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “আমরা উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় কাজ করছি। চলতি বছরে কুয়াকাটায় এখন পর্যন্ত একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানাচ্ছি, যেন এসব ডলফিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হয়।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চর-গঙ্গামতি কাঁকড়া চোর এলাকায় এবং একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর চর-গঙ্গামতির ‘৩৩ কানি’ এলাকায় দুটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি এবং ২০২৫ সালে ১১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে।
বারবার এভাবে ডলফিনের মৃত্যু ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান না হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অজানাই থেকে যাচ্ছে, যা পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামান বলেন, “দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...