বিজ্ঞাপন
ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে ট্রাম্পের এই আধিপত্যবাদী আচরণের কঠোর সমালোচনা করছেন ইউরোপীয় রাজনীতিকরা। ফ্রান্সের বামপন্থি আইনপ্রণেতা এরিক কোকুয়েরেল সরাসরি বিশ্বকাপ বর্জনের প্রস্তাব তুলেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “যারা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর আধিপত্য দেখাতে চায় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিচ্ছে, তাদের দেশে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যেতে পারি না।” তিনি প্রয়োজনে ইভেন্টটি সম্পূর্ণভাবে মেক্সিকো ও কানাডায় সরিয়ে নেওয়ারও দাবি জানান।
ফ্রান্সের ভেতরে বিশ্বকাপ বর্জনের দাবি জোরালো হলেও দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি আপাতত এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় এই মুহূর্তে এমন বড় এবং প্রত্যাশিত ইভেন্ট বর্জনের কোনো ইচ্ছা পোষণ করছে না।” খেলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপকে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা স্কটল্যান্ড বর্জনের পথে হাঁটতে রাজি নয়। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা স্টিফেন ফ্লিন কৌতুকের ছলে বলেন, ১৯৯৮ সালের পর থেকে তারা পরোক্ষভাবে বিশ্বকাপ বর্জন (অযোগ্যতা) করে আসলেও এবার তারা মিত্রদের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই এগোতে চান। তবে গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডসহ ‘হোম নেশন’ এমপিদের একটি অংশ ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি তুলেছেন।
বিতর্ক আরও উসকে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরে বাধা দিলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি ও নরওয়েসহ ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। জুনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রি না করলে এই শুল্কের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ক্রীড়া ও রাজনীতির এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপের সবুজ ঘাসে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...