Logo Logo

গোপালগঞ্জ- ১ আসন : ‘কারাবন্দী’ বনাম ‘মাঠের’ প্রার্থীর চতুর্মুখী লড়াই


Splash Image

বামে থেকে বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলিম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশ্রাফুল আলম শিমুল (ফুটবল), গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া (ট্রাক), জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আবদুল হামীদ মোল্যা (দাঁড়িপাল্লা)।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক সময়ের ‘নৌকা’র দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী আংশিক) আসনে বইছে নতুন রাজনৈতিক হাওয়া। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যে থাকলেও, ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর এবার প্রথমবার ‘নৌকা প্রতীক’ ছাড়াই ভোটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫১০ জন ভোটার। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠের বাইরে থাকায় আসনটিতে বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চতুর্মুখী লড়াইয়ের তোড়জোড়।


বিজ্ঞাপন


এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই কারাবন্দী প্রার্থীর লড়াই। তারা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মুকসুদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আশ্রাফুল আলম শিমুল (ফুটবল) এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া (ট্রাক)। আইনি জটিলতা কাটিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। মো. আশ্রাফুল আলম শিমুল এর আগে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং তার শক্তিশালী পারিবারিক ভিত্তি রয়েছে। অন্যদিকে মো. কাবির মিয়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ৮ হাজার ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। সমর্থকদের ধারণা, কারাবন্দী হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ‘সহানুভূতি’ তাদের বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপির পক্ষে এ আসনে লড়ছেন হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম (ধানের শীষ)। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কাজে লাগিয়ে আসনটি দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। পিছিয়ে নেই জামায়াতে ইসলামীও; মুহাম্মদ আবদুল হামীদ মোল্যা (দাঁড়িপাল্লা) নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মিজানুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির সুলতান জামান খান (লাঙ্গল) এবং সিপিবির নীরদ বরণ মজুমদারসহ (কাস্তি) মোট ৯ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন।

অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের ফারুক খান একাধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। ২০১৮ সালেও তিনি ৩ লাখের বেশি ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে ধানের শীষ পেয়েছিল মাত্র ৯৫৭ ভোট। তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দলটির বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী এখন কোন দিকে ঝুঁকবেন, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভোটাররা বলছেন, এবার প্রতীক নয় বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও উন্নয়নের ভূমিকাই হবে জয়ের প্রধান মাপকাঠি।

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে রিয়াজ মোর্শেদ অপু হত্যা মামলায় আশ্রাফুল আলম শিমুলকে গত ৮ জানুয়ারি শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় মো. কাবির মিয়াকে গত বছরের ১৭ এপ্রিল বিমান বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বর্তমানে দুই আলোচিত প্রার্থীই কারাগারে থেকে লড়াই চালাচ্ছেন। তৃণমূল ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নতুন সমীকরণে গোপালগঞ্জ-১ আসনের লড়াই এখন ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...