বিজ্ঞাপন
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করেন। এটি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।
নতুন এই মুদ্রানীতিতে প্রধান নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে এই হার কার্যকর রয়েছে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সুদহার প্রযোজ্য হয়। এছাড়া আন্তঃব্যাংক ধারের ক্ষেত্রে নীতি সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এবারের মুদ্রানীতিতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশায় এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে, ব্যাংকগুলো যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা অলস বসিয়ে না রেখে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, সেজন্য স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
গভর্নর জানান, আগামীতে এই হার আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে যাতে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রদানে আরও আগ্রহী হয়।
সরকারি খাতের ঋণের ক্ষেত্রে নতুন মুদ্রানীতিতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থাকলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই নতুন সীমা অনুসরণ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমানে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে অবস্থান করছে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মুদ্রানীতির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ ও মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...