ছবি: রয়টার্স।
বিজ্ঞাপন
নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল এবং স্থানীয় সশস্ত্র ডাকাত দলগুলো অত্যন্ত সক্রিয়। মূলত মুক্তিপণের জন্য অপহরণ এবং লুটতরাজই তাদের মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিউদুন জানান, সন্ত্রাসীরা প্রথমে তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে তাদের গুলিতে ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। গ্রামটিতে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করার পাশাপাশি তারা অসংখ্য মানুষকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে অপহৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামের পর সন্ত্রাসীরা কোনকোসো গ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। ওই গ্রামের বাসিন্দা জেরেমিয়াহ তিমোথি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভোরবেলা হঠাৎ বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণের শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। সন্ত্রাসীরা গ্রামে ঢুকেই স্থানীয় থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু এই গ্রামেই অন্তত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। হামলার সময় আকাশে সামরিক যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপি-কে জানান, কোনকোসো গ্রামে নিহতের সংখ্যা ৩৮ পর্যন্ত হতে পারে। হামলাকারীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে অনেককে গুলি করে এবং কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ি তারা আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে এবং সর্বস্ব লুট করে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই নাইজেরিয়ার কাওয়ারা এবং কাতসিনা রাজ্যে সন্ত্রাসীদের পৃথক হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও এই নৃশংসতা দেশটিতে চরম নিরাপত্তা সংকট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...