বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, কোতয়ালী থানা এলাকার একটি ইজিবাইক পার্কিং থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী চালক একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটির পর এক অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ইজিবাইক চুরি করে আসছিল। চুরি করা ইজিবাইকগুলোর পরিচয় গোপন করতে তারা বেশ কৌশলী পথ অবলম্বন করত। শনাক্ত এড়াতে তারা ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ আলাদা করা, রং পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত করে ফেলত এবং অবৈধ গ্যারেজে নতুনভাবে সংযোজন করে বিক্রি করত।
পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী ও কোতয়ালী থানা এলাকাসহ শরীয়তপুর ও মাগুরার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৩টি সচল ও ৫টি অচলসহ মোট ১৮টি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রাংশ কাটার মেশিন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ইজিবাইকগুলোর মধ্যে একটি ইজিবাইক মামলার বাদী শনাক্ত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মোঃ আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। তারা সবাই পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, আজমির হোসেন, রায়হান গফুর (ডিএসবি) এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...