Logo Logo

ঝিনাইদহে প্রাথমিকের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা


Splash Image

অভিযুক্ত শিক্ষিকা শ্রাবন্তী বিশ্বাস।

ঝিনাইদহে শ্রাবন্তী বিশ্বাস নামে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ১৪ই নভেম্বর সদর উপজেলার কুলবাড়ীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ভক্তি দেবনাথের দায়ের করা মামলার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ মামলাটি করেন ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।


বিজ্ঞাপন


ঝিনাইদহ বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ভুক্তভোগী ভক্তি দেবনাথের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ভক্তি দেবনাথ ঝিনাইদহ সদরের কুলবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। অপরদিকে অভিযুক্ত শ্রাবন্তী বিশ্বাস জেলার শৈলকুপা উপজেলার বি.এম.কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। শিক্ষকতার সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে পরিচিতি ও সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শ্রাবন্তী বিশ্বাস জমি কেনার কথা বলে ভক্তি দেবনাথের কাছে থেকে ১০ লক্ষ টাকা ধার নেয়। এই দশ লক্ষ টাকা আগামী তিন মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন তালবাহানা করে ঘোরাতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে নগদ টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে গত ২০২৪ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর শ্রাবন্তী বিশ্বাসের নিজ নামীয় সোনালী ব্যাংক শৈলকুপা শাখার হিসাবে বরাবরের ১০ লক্ষ টাকা উল্লেখ করে একটি চেক প্রদান করেন তিনি। যার চেক নম্বর ঝঘ-১০, ২৪৯৪৬৯৮ এবং হিসাব নম্বর ৪৪২১৬৩৪০১৭৬৪৩।

চেকটি নিয়ে ভক্তি দেবনাথ তার নিজ নামীয় একাউন্ট ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পি.এল.সি শাখায় জমা করলে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি সোনালী ব্যাংক লি: শৈলকুপা শাখা বরাবর প্রদান করেন। সেসময় শৈলকুপা সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটির হিসাব নম্বর সার্চ করে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা নেই উল্লেখ পূর্বক গত ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চেক ডিজঅনার স্লিপসহ চেকটি ভক্তি দেবনাথকে ফেরত দেন। ব্যাংক এ্যাকাউন্টে টাকা না থাকার বিষয়ে ভক্তি দেবনাথ শ্রাবন্তী বিশ্বাসের নিকট জানালেও তিনি টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা না করে বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাইতে থাকেন এবং টাকা না দিতে প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

একপর্যায়ে শ্রাবন্তী বিশ্বাসের চতুরতা বুঝতে পেরে আইনের আশ্রয় নেয় ভক্তি দেবনাথ। প্রথমে ভক্তি দেবনাথের নিয়োজিত আইনজীবী ঐ বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রাবন্তী বিশ্বাসের বরাবর একটি লিগ্যাল নোটিশ যার রেজিস্ট্রেশন এ/ডি সহকারে প্রেরণ করেন। একই সাথে লিগ্যাল নোটিশটি সংযুক্ত আকারে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরও দেন ভক্তি দেবনাথের ঐ আইনজীবী। এদিকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণের ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও শ্রাবন্তী বিশ্বাস ভুক্তভোগীর সাথে কোন রূপ যোগাযোগ না করে প্রতারণার পথ বেছে নিতে থাকে বলে অভিযোগ করেন ভক্তি দেবনাথ।

ভক্তি দেবনাথের আইনজীবী কামরুল আবেদীন শাহীন জানান, আসামীর একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই জেনেও বাদীর নামে চেক প্রদান করে হস্তান্তর যোগ্য দলিল আইনের ১৩৮ ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছেন তিনি। অপরদিকে আসামি বাদীর নিকট থেকে টাকা নিয়ে নিজে লাভবান হয়েছেন, অপরদিকে কথামত টাকা ফেরত না দিয়ে বাদিকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। যা আইনত দণ্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ মামলার রায় আমাদের পক্ষে হবে, সেই সাথে অভিযুক্ত শ্রাবন্তী বিশ্বাসকে প্রতারণার দায়ে সাজা ভোগ করতে হবে বলে আশা করছি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, লিগ্যাল নোটিশটি আমলে নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাকি সালাম কে নির্বাচিত করে এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ২০২৩ সালের ৬ মার্চ বিভাগীয় দপ্তরে শ্রাবন্তী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি আদালত রিলেটেড হওয়ায় আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করছে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা শ্রাবন্তী বিশ্বাস আংশিক সত্যতা স্বীকার করে আজকের দর্পণকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে আসলে বিষয়টি সেরকম নয়।

আমি ভক্তি দেবনাথের কাছে টাকা চেয়েছিলাম কিন্তু তার কাছে নগদ টাকা না থাকায় একটি এনজিও থেকে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। এরমধ্যে দেড় লক্ষ টাকা নগদ ফেরত দিয়েছি এবং ১ বছর ধরে আমি কিস্তি চালিয়েছি। বাকি ২ বছরের কিস্তির টাকা ভক্তি দেবনাথ পাবেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...