বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারে বাবলু মোল্লার চায়ের দোকানে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে।
আহত সোহেল মোল্লা ফলিয়া গ্রামের শাহাজাহান মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সহস্রাইল বাজারে বাবলু মোল্লার চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন আক্তার খালাসি ও আরও কয়েকজন। ওই সময় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সোহেল মোল্লা প্রথমে আক্তার খালাসির পাঞ্জাবির হাতা এবং পরে কলার টেনে ধরেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আক্তার খালাসি দোকানের চুলায় থাকা কেটলির ফুটন্ত গরম পানি সোহেলের শরীরে ঢেলে দেন।
চায়ের দোকানদার বাবলু মোল্লা জানান, সোহেল একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক। কেবল পাঞ্জাবি টেনে ধরার কারণে আক্তার খালাসি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই নিষ্ঠুর কাজটি করেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আক্তার খালাসি বলেন, "প্রথমে সে আমার পাঞ্জাবি টেনে ধরে, পরে গলা চেপে ধরলে আমি নিজেকে ছাড়াতে গিয়ে কেটলি দিয়ে আঘাত করি। কিন্তু কেটলিতে যে গরম পানি ছিল, তা আমার জানা ছিল না। এই ঘটনার জন্য আমি নিজেও অনুতপ্ত।"
আহত সোহেলের বাবা শাহাজাহান মোল্লা জানান, ছেলেকে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি গরিব মানুষ, টাকা-পয়সা নেই। আমার ছেলেটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, তার চিকিৎসার খরচ এখন কীভাবে জোগাবো? আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খাঁন জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী যুবককে দেখেছেন। তবে ঘটনাস্থল বোয়ালমারী থানা এলাকায় হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপের জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বোয়ালমারী থানার ওসির মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...