বিজ্ঞাপন
আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কোচ ও সংগঠকদের পাশাপাশি উদীয়মান খেলোয়াড়দের দিক-নির্দেশনা দিতে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় পর্যায়ের ৩২ জন তারকা ক্রীড়াবিদ। সরকার গঠনের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এই বৃহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে এবং অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট হবে প্রাথমিক বাছাই ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে। গত ১২ থেকে ২৬শে এপ্রিল পর্যন্ত চলা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সারা দেশ থেকে মোট ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৯৪৯ জন ছেলে এবং ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন মেয়ে। অঞ্চলভেদে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ঢাকা থেকে এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ অঞ্চলে।
পুরো দেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে (ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ) বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথমে উপজেলা পর্যায় থেকে খেলা শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। আগামী ১৩ থেকে ২২শে মে’র মধ্যে আঞ্চলিক পর্বের খেলাগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য প্রতিটি পর্যায়ে প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দিতে নির্ধারিত হারে ভাতা, জার্সি ও সনদপত্র প্রদান করবে সরকার। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা মেধাবীদের জন্য থাকছে দীর্ঘমেয়াদী আবাসিক ক্যাম্প ও বিকেএসপিতে ভর্তির অগ্রাধিকার।
এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, মেধাবী খেলোয়াড়দের সরকারি ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে এবং তাদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সার্বিক দায়িত্ব নেবে সরকার। আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোর মানোন্নয়ন করা হচ্ছে যাতে খেলোয়াড়রা নিজ নিজ অঞ্চলেই উন্নত সুবিধা পান।
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রীড়াকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়রা যাতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় না ভোগেন, সেজন্য তাদের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিভা অন্বেষণে স্বজনপ্রীতি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো মেধা যেন অবমূল্যায়িত না হয় সেদিকে কড়া নজরদারি রাখা হবে। প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক নতুন জাগরণ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...