বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন—গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০), দেড় বছরের শিশু ফারিয়া এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা (১৯)। অভিযুক্ত খুনি ঘাতক স্বামী ফোরকান মোল্লা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
নিহত শারমিনের মা ফেরেজা বেগম বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার ছোট ছেলে রসুল গতকালই নতুন জামা-প্যান্ট কিনে হাসতে হাসতে বোনের বাড়িতে গিয়েছিল। কে জানত ওই যাওয়াই হবে তার শেষ যাওয়া! পরিকল্পিতভাবে চাকরি দেওয়ার নাম করে রসুলকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।"
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সাথে শারমিনের বিয়ে হয়। পেশায় চালক ফোরকান মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাদের সংসারে দীর্ঘদিনের কলহ ছিল। বিবাদের জেরে এক বছর বাবার বাড়িতে থাকার পর গত ডিসেম্বরে পুনরায় সুখে শান্তিতে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারমিন ও সন্তানদের গাজীপুরের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে যান ফোরকান।
প্রতিবেশী ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার রাত ৮টার পর থেকেই রসুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘাতক ফোরকানের ভাই জব্বার মোল্লা ফোনে জানান যে, ফোরকান ফোন করে পরিবারের সবাইকে শেষ করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাকে আর খোঁজাখুঁজি না করতে বলেছেন।
প্রতিবেশী আবেদ আলী মীর জানান, শারমিনের বাবা শাহাদাত মোল্লা একজন গ্রাম পুলিশ। অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। ঘাতক ফোরকানের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো গাজীপুর থেকে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্বজনরা মরদেহ নিয়ে রওনা হতে পারেননি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...