বিজ্ঞাপন
ফিফার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো বিশ্বকাপের টিভি স্বত্ব বিক্রি করা, যা উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেনি। ফলে বাংলাদেশের টেরিটরির (অঞ্চল) টিভি ও ডিজিটাল রাইটস কিনে নিয়েছে সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ‘স্প্রিংবক’।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরের এই প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি আকাশচুম্বী মূল্য দাবি করছে বাংলাদেশের বাজারের জন্য। আর এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দিয়ে স্বত্ব কিনতে হিমশিম খাচ্ছে দেশীয় চ্যানেলগুলো।
দেশের একমাত্র খেলার চ্যানেল ‘টি স্পোর্টস’-এর সিইও ইশতিয়াক সাদেক সিঙ্গাপুরে গিয়ে স্প্রিংবকের সাথে আলোচনা করলেও চড়া মূল্যের কারণে শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। এছাড়া কয়েক মাস আগে সম্প্রচার শুরু করা নতুন চ্যানেল ‘স্টার নিউজ’-ও খেলা দেখানোর বিষয়ে আগ্রহী ছিল।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো বিজ্ঞাপনের বাজার বড় নয়। তার ওপর অনেক ম্যাচ গভীর রাত কিংবা ভোরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শক তুলনামূলক কম পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনা করে বিপুল লোকসানের ঝুঁকিতে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো চুক্তিতে যায়নি।
একটা সময় ফিফা প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রীয় চ্যানেলকে বিনামূল্যে বা স্বল্প মূল্যে ‘টেলিস্ট্রিরিয়াল রাইটস’ সরবরাহ করত। কিন্তু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে সেই সুযোগ আর নেই। গত বিশ্বকাপে টি স্পোর্টস ও জিটিভির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভিও উচ্চ মূল্যে খেলা দেখিয়েছিল। সেবার দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ স্প্রিংবকের কাছ থেকে রাইটস কিনে বিটিভির কাছে চড়া দামে বিক্রি করায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
এবার বিটিভি খেলা দেখাবে কি না, তা জানতে বিটিভির মহাপরিচালক (ডিজি) মোঃ মাহবুবুল আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে ফুটবলপ্রেমীদের আশার আলো দেখাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, "বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পাওয়ার জন্য একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্রুতই একটি সুপারিশ দেবে এবং সেই অনুযায়ী দেশের মানুষের জন্য যেটা ভালো হয়, সেই পদক্ষেপই নেওয়া হবে।"
স্পোর্টস মার্কেটিং ও টিভি স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করা বাফুফের বর্তমান সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, "ফিফা দিন দিন টিভি রাইটসের দাম বাড়াচ্ছে। এবার এই অঞ্চলের জন্য যারা স্বত্ব কিনেছে, তারা অত্যধিক দাম দাবি করায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যারা কিনতে আগ্রহী, তাদের পক্ষে এই ব্যয় তুলে আনা প্রায় দুঃসাধ্য। তারপরও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের স্বার্থে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কোনো সমন্বয় করা যায় কি না, তা দেখা উচিত।"
বাংলাদেশ সরাসরি টেন্ডারে অংশ না নেওয়ায় প্রতিবারই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে স্বত্ব কিনতে হয়। এবারের ২০০ কোটি টাকার এই জটিলতা কাটিয়ে দেশের মানুষ টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় দলের খেলা দেখতে পারবে কি না—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...