Logo Logo

‘আগে এমপিদের মানুষ সোনার হরিণ মনে করতো’: গোপালগঞ্জে এমপি ডাঃ বাবর


Splash Image

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে.এম বাবর বলেছেন, অতীতে সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় এমপিদের সাধারণ মানুষ ‘সোনার হরিণ’ মনে করতো। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের জন্য কাজ করা অত্যন্ত কষ্টের এবং যাদের ভোটের প্রয়োজন হতো না, তারা জনগণের জন্য এই কষ্ট স্বীকার করতেন না। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আগামীতে যেকোনো দলের প্রার্থীকেই জনগণের দোরগোড়ায় যেতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


আজ রোববার বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সংসদ সদস্যের জন্য নবনির্মিত ‘পরিদর্শক কক্ষ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য এই পরিদর্শক কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকা সফরকালে এমপি ডাঃ কে.এম বাবর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কক্ষে অবস্থান করবেন, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন এবং উপকৃত হন।

অনুষ্ঠানে বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এমপি বাবর বলেন, “আমি মানুষের সাথে যে ওয়াদাবদ্ধ, তা পূরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে জনগণের সামনে দাঁড়াতে পারব না। আগের এমপিদের তো সাধারণ মানুষের ভোট কিংবা জনসভার প্রয়োজন হতো না। মাত্র ৪ থেকে ৫টি ইউনিয়নে গিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করলেই নির্বাচন শেষ হয়ে যেত। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আমরা প্রতিটি ভোটারের কাছে গিয়েছি এবং আগামীতে এই ধারা বজায় রাখতে হবে।”

এ সময় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অসংগতি ও স্থবিরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। বিশেষ করে স্থানীয় চক্ষু হাসপাতালের (আই হসপিটাল) উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে অনেক দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরি হলেও সেগুলোর বাস্তব কোনো কার্যক্রম বা সুফল জনগণ পাচ্ছে না। আমি আজ চক্ষু হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আগে ভাবতাম এটি একটি একক ভবন, কিন্তু সেখানে আরও ১৮টি ভবন রয়েছে যা এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। নির্মাণত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভবনগুলো বুঝে নেয়নি।”

তিনি আরও জানান, ৫০০ কোটি টাকার এই চক্ষু হাসপাতাল প্রকল্পটি তিনবার মেয়াদ বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫০০ কোটি টাকায় ঠেকানো হয়েছে। বর্তমানে এই ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা চরম রাষ্ট্রীয় অপচয়। এই ধরনের অপরিকল্পিত ও ক্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে রাষ্ট্র দিন দিন ঋণী হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিয়াউল কবির বিপ্লব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) কৌশিক আহম্মেদ, পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ এবং জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান প্রমুখ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই পরিদর্শক কক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সাথে প্রশাসনের দূরত্ব অনেকাংশে কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...