বিজ্ঞাপন
ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সেশনের এই নিয়োগ কার্যক্রমে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, লিখিত এবং সর্বশেষ মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ।
সোমবার (১৮ মে) গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিরেট প্রক্রিয়ায় এই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নিয়োগের ফলাফল ও উত্তীর্ণদের নাম ঘোষণার সময় মিলনায়তনে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা বাড়তি হয়রানি ছাড়া, মাত্র ১২০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার জোরে চাকরি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন উত্তীর্ণ সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রার্থীরা।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ ছাড়াও নিয়োগ বোর্ডের সম্মানিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশিদ, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় গোপালগঞ্জ জেলা থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ১ হাজার ২০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অত্যন্ত স্বচ্ছ, নিরেট ও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কঠিন সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে ২২ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে নিজেদের সন্তানদের এই সাফল্যে নির্বাচিত প্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা জেলা পুলিশের এই সততা ও যুগান্তকারী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
উত্তীর্ণ নবনিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, “তোমরা মাত্র ১২০ টাকার বিনিময়ে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার জোরে আজ পুলিশের চাকরি পেলে। এখন তোমাদের মূল দায়িত্ব হলো দেশের মানুষের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে ভালো কাজ করা। এটাই তোমাদের কাছে আমার একমাত্র আশা।”
তিনি নির্বাচিতদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আরও বলেন, “মহান আল্লাহ সকলকে সুস্থতা ও হেফাজত দান করুক। তোমরা নতুন বাংলাদেশের অংশীদার হয়ে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি সুন্দর সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে এই ধরনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করি, একটি করে ভালো কাজ করি এবং আমাদের চারপাশ পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখি, তবেই একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সার্থক হব।
প্রতিবেদক- এম টি রহমান মাহমুদ, গোপালগঞ্জ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...