বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ দিন নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) মামলার দুই আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দেওয়া হয়। পরদিন চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এর আগে গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। একই দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করেছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি।
পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামিদের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে অপর আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০ মে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আলোচিত এ মামলার রায়কে ঘিরে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...