বিজ্ঞাপন
মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক দাবি করে এবং এর সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, গত ২০ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ডিগ্রীরচর গ্রামে সেলিনা আক্তার ও শাহিন শিকদার নামের দুজনকে একটি নির্জন স্থানে আপত্তিকর ও অনৈতিক অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয় জনতা। পরে তাঁদের কাদিরপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম ঢালীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা শিবচর থানা পুলিশকে বারবার অবহিত করলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে রাত ২টার দিকে স্থানীয় যুবক শুভ ঢালীর মোবাইল ফোন থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করা হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমকেও জানানো হয়। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে শিবচর থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল ঘটনাস্থলে আসলেও তিনি রহস্যজনক কারণে আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত ওই দুজনকে থানায় নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে রাত ৪টার দিকে তাঁদের আত্মীয়দের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে জানা যায়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও স্থানীয়দের মুখ বন্ধ করতে পরের দিন ২১ মে শিবচর থানায় উল্টো একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিযুক্ত নারী সেলিনা আক্তার। এর পরদিনই এসআই আমিনুল ইসলাম গভীর রাতে মামলার সাক্ষী শুভ ঢালীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় আঘাত করে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন।
সর্বশেষ, ঘটনার আট দিন পর কোনো প্রকার পুলিশি তদন্ত বা সত্যতা যাচাই ছাড়াই ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে মামলাটি নথিভুক্ত করে থানা পুলিশ। এই মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘আজকের দর্পণ’ ও ‘ইসলামিক টিভি’র স্থানীয় সাংবাদিক মীর মফিজুর রহমান ইমরানসহ একাধিক নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক মীর মফিজুল ইসলাম ইমরান বলেন, “মামলার বাদী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে উপরমহল থেকে চাপ সৃষ্টি করিয়ে এই ভুয়া মামলাটি করিয়েছেন, যার কোনো তথ্যেরই ভিত্তি নেই। নিজেদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতে আমাকেসহ ১১টি নিরীহ পরিবারকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে এই নোংরা চক্রান্তের সুষ্ঠু বিচার ও সমাধান চাই।”
বিনা তদন্তে এবং ৯৯৯-এর কল রেকর্ড উপেক্ষা করে কেন মামলা নেওয়া হলো— এমন প্রশ্নের জবাবে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন চাপের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “মামলাটি নেওয়ার জন্য অনেকেই বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। যেহেতু ওই নারীও পরে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, তাই মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী সেলিনা আক্তারের নামে আগেও বিভিন্ন মামলা ও বিতর্কিত রেকর্ড রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি, অহেতুক কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।”
অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী সেলিনা আক্তার দাবি করেছেন, “একটি মোটরসাইকেল যোগে আমি ও আমার চালক ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলাম। পথে কতিপয় ব্যক্তি আমাদের পথরোধ করে মারধর ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালায়। আমি শুধু সেই অপরাধীদের বিরুদ্ধেই থানায় আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...