বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারশাল্যে গ্রামের শফিকুল ইসলামের বাড়ির একটি ফলন্ত কদবেল গাছকে কেন্দ্র করে এই তাণ্ডবের সূত্রপাত হয়।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে তার বাড়ির কদবেল গাছের ডাল ভেঙে ফল পাড়ছিল। এতে তার স্ত্রী বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে প্রকাশ্যে মারধর করতে উদ্যত হয়। এর পরদিন শুক্রবার তারা আবারও এসে পুরো কদবেল গাছটি গোড়া থেকে কেটে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
শফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, গাছ কাটার পর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চলে যাওয়ার সময় অত্যন্ত নৃশংস হুমকি দেয়। তারা বলে, কদবেল গাছ যেভাবে চিরে ফেলা হয়েছে, ঠিক সেভাবে ওই পরিবারের সবাইকে চিরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। এই হুমকির পর থেকে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, এই কিশোর গ্যাংয়ের মূল নেতৃত্বে রয়েছে পারশাল্যে গ্রামেরই চার যুবক। তারা হলো— ইউসুফ হোসেনের ছেলে আকাশ হোসেন রাফি, ফারুক হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন হৃদয়, বাবলু রহমানের ছেলে মো. বাপ্পি এবং মো. বাপ্পির ছেলে মো. সাকিব প্রমুখ।
শুধু শফিকুল ইসলামের পরিবারই নয়, এই চক্রের হাতে পুরো গ্রাম এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে। পারশাল্যে গ্রামের বাসিন্দা জহুর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে পুরো এলাকাটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এদের এখনই লাগাম টেনে না ধরলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। স্থানীয় সচেতন মহল এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রতিকার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং এই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে দ্রুত পুলিশি অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন পারশাল্যে মাছখোলা গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...