ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার এসেছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। ১১ মাসে দেশটি থেকে এসেছে ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, সেখান থেকে এসেছে ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এরপর মালয়েশিয়া থেকে ৩২২ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার দেশে এসেছে।
শীর্ষ পাঁচ দেশের বাইরে ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এই ছয় দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে মাত্র ১১টি দেশ থেকে।
যদিও পুরো অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাবে সৌদি আরব শীর্ষে রয়েছে, তবে মে মাসে চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে যুক্তরাজ্য থেকে। একই সময়ে সৌদি আরব থেকে আসে ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, আর ইউএই থেকে আসে ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে, মে মাসে যুক্তরাজ্য প্রথমবারের মতো শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে। গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য থেকে যেখানে এসেছিল ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার, সেখানে মে মাসে তা বেড়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমের পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে নীতিগত পরিবর্তন, তেলের বাজারের অস্থিরতা কিংবা ভূরাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জয়েন্ট ডিরেক্টর বলেন, বিদ্যমান শ্রমবাজার ধরে রাখার পাশাপাশি ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মী রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি কয়েকটি দেশের ওপর অতিনির্ভরতাও কমবে।
তার মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্সের উৎস বৈচিত্র্যময় করা এখন সময়ের দাবি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...