Logo Logo

সাতক্ষীরায় বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ধর্ষণ ও সংসার ভাঙার অভিযোগ


Splash Image

সাতক্ষীরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ, তার সংসার ভেঙে ফেলা এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আরাফাত হোসেন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় সাতক্ষীরা শহরের 'স্বদেশ'-এর সালিশ ও আইনি সহায়তা কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মাহিয়া আফরিন শান্তা এবং তার মা শাহানারা খাতুন। এ সময় তারা অভিযুক্ত যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে বিয়ে হয় মাহিয়া আফরিন শান্তার। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সম্মতিক্রমে বাবার বাড়িতে থেকে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে আসছিলেন। অধ্যয়নকালে বান্ধবী আঁখি মনির বাড়িতে ইংরেজি পড়তে গিয়ে আঁখি মনির ভাই অভিযুক্ত আরাফাত হোসেনের সাথে তার প্রথম পরিচয় হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পরিচয়ের সূত্র ধরে আরাফাত কৌশলে শান্তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে শুরু করেন। প্রথম দিকে বিবাহিত হওয়ার কারণে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও বিভিন্ন প্রলোভন, বিয়ের আশ্বাস এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেন আরাফাত। একপর্যায়ে স্বামীকে তালাক দিলে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর কলেমা পড়িয়ে মৌখিকভাবে বিয়ের নাটক সাজিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে তাকে প্রথম ধর্ষণ করা হয়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা হয়। আসামির প্ররোচনাতেই তিনি ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর তার প্রথম স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য হন।

সংবাদ সম্মেলনে শান্তা আরও জানান, সর্বশেষ গত ১৬ মে আরাফাত তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে নিজ বাড়িতে ডাকেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বিয়ে করার কথা বলে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হাত বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত আরাফাত সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে জিআর-২৫৮ হিসেবে বিচারাধীন। তবে মামলা দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলেও প্রধান আসামি এখনও অধরা রয়ে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর মা শাহানারা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়ের প্রথম সংসারটি টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি একাধিকবার অভিযুক্তের স্বজনদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তা কর্ণপাত না করে উল্টো অপমান করে তাড়িয়ে দেন। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, "আমার মেয়ের জীবন ও সংসার দুটোই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমরা কেবল ন্যায়বিচার চাই। অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।"

তবে এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...