Logo Logo

গোপালগঞ্জে ১০ দিনের ব্যবধানে সবজির দাম ৩ গুণ: ৮৫ হেক্টর ক্ষেত জলমগ্ন, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ


Splash Image

টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সবজি ক্ষেত ডুবে যাওয়ার অজুহাতে গোপালগঞ্জে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জেলাজুড়ে শাকসবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বড় বাজারগুলোতে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি মেলানো দায় হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মাছের বাজারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের পরিবারগুলো।


বিজ্ঞাপন


আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারের কাঁচা ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে এই অগ্নিমূল্যের চিত্র।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র কয়েকদিন আগেও যে ঢ্যাঁড়শ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো, তা লাফিয়ে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৩০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, ধুন্দল ও পটল কেজিপ্রতি যথাক্রমে ৬০ ও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাঝারি আকারের লাউ ৩০-৪০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে তুলনামূলক কম দামের সবজি বলতে রয়েছে কেবল পেঁপে (৪০ টাকা কেজি)। তবে কাঁচামরিচ লিফট দেওয়ার মতো একলাফে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে গিয়ে ঠেকেছে।

সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দাম। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৩৫০-৪০০ গ্রামের ছোট ইলিশের দাম উঠেছে দেড় হাজার টাকায়। এছাড়া চাষের পাঙাশ, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

মাছ বিক্রেতা জহর জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছের ঘের ভেসে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। এ সময়ে ইলিশের আমদানি বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো দাম আশঙ্কাজনকভাবে চড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানান, জুলাই মাসে জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে জেলার ৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ১ হাজার ৩ শত ৬০ জন সবজি চাষী মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং বাজারে স্থানীয় সবজির সরবরাহ এক প্রকার বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, “বাজারে স্থানীয় সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় অন্য জেলা থেকে পণ্য আনতে হচ্ছে। তবে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন অতি মুনাফা লুটতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে এবং ক্রয়-বিক্রয় মূল্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...