বিজ্ঞাপন
মামলার প্রধান আসামি রিতোষ রায়ের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে দ্বিতীয় আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়া (২৫)-কে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি রিতোষ রায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের গরংগল গ্রামের হিরন রায়ের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ঘটনাস্থল ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। অন্য আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়া একই ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নান্নু ডাকুয়ার ছেলে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, গত ১৭ জুলাই রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের বেশিরভাগ বাসিন্দা কীর্তিপাশা ও ভিমরুলী এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান। এই সুযোগে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রিতোষ তার সহযোগী জুয়েলকে নিয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলায় মালিক তপন রায়ের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। এ সময় দরজা ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় গৃহবধূ মলিনা রায়ের। তিনি একই ভবনের ভাড়াটিয়া রিতোষকে চিনে ফেললে ধরা পড়ার ভয়ে দুই আসামি তার মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে মুখে বাজারের ব্যাগ গুঁজে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর পুরো ঘটনাটিকে সাধারণ চুরির রূপ দিতে প্রধান আসামি রিতোষ নিজের ভাড়া করা ফ্ল্যাটটিও এলোমেলো করে রাখেন। পরবর্তীতে তারা ভবনের পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও আলামত পর্যালোচনা করে প্রধান আসামি রিতোষকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০-এর সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান জানান, মলিনা রায় হত্যা মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই আসামিকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই রাতে ঝালকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি রোড এলাকার তিনতলা ভবনে এই চুরি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্বজনেরা বাড়িতে ফিরে বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে নিহতের মেয়ে পূজা রায় ভেতরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে বস্তা পরানো অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার সময় মলিনা রায় বাসায় একাই ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...