প্রতীকী এই ছবিটি কৃত্রিম মেধা দ্বারা নির্মিত।
বিজ্ঞাপন
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলক্যানোলজি (INGV) জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৬ মিনিটে (১৭ :৪৬ জিএমটি) এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নেপলসের পশ্চিমে ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই আগ্নেয়গিরি এলাকার মাটির মাত্র ৩ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয় এবং নেপলস ও নিকটবর্তী পোজুওলি শহরের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
ভূমিকম্পের পরপরই সুরক্ষার স্বার্থে নেপলস ও এর আশেপাশের ট্রেন ও ভূগর্ভস্থ মেট্রো চলাচল স্থগিত রাখা হয়। ইতালীয় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আঘাতের ফলে কিছু ভবনে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি বা ফাটলের খবর পাওয়া গেলেও বড় কোনো উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর হতাহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ভূকম্পনের কারণে বিদ্যুতের সাবস্টেশনে বিঘ্ন ঘটায় শহরের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ সময় ব্ল্যাকআউট তৈরি হয়। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতি মূল্যায়নে মাঠে কাজ করছেন।
ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই হলো ঘনবসতিপূর্ণ একটি সুবিশাল আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ (ক্যালডেরা), যা নেপলসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ প্লেটের সক্রিয়তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। ইতালীয় গণমাধ্যমের মতে, বিগত ৪০ বছরের মধ্যে ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই অঞ্চলে রেকর্ড করা অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
এই আকস্মিক কম্পনে আশির দশকের (১৯৮০) সেই ভয়াবহ ভূ-কম্পন সংকটের স্মৃতি ফের উসকে উঠেছে, যা তৎকালীন সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করেছিল। এছাড়া ২০১৬ সালেও মধ্য ইতালিতে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে ইতালি ভূকম্পনপ্রবণ দেশ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পি ফ্লেগ্রেই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...