বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি শেষ করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে ফেনীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তারা এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপাল এলাকা সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে চলমান একদফা আন্দোলনের অংশ হিসেবে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সেখানে সমবেত হন। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সশস্ত্র নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাতজন আন্দোলনকারী নিহত হন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের স্মৃতিচারণেও সেদিনের সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এবং অস্ত্রধারীদের একটি বড় অংশ এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেনী সদর মডেল থানায় মোট ২২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যা এবং ১৫টি হত্যাচেষ্টার মামলা। ইতোমধ্যে তিনটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
মামলাগুলোতে ২ হাজার ১৯৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৪ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামাসহ সহস্রাধিক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার বলেন, যারা অস্ত্র ব্যবহার করে হামলায় অংশ নিয়েছিল, তাদের অধিকাংশই এখনও পলাতক। তবে তাদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...