বিজ্ঞাপন
২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও সংকট এবং সমস্যা যেনো পিছন ছাড়ছেই না বিশ্ববিদ্যালয়টির।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৫ টি বিভাগের ১০ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস রুম রয়েছে মাত্র ৩৬ টি এবং ল্যাবরুম ৩১ টি। ক্লাসের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় দফা,করিডোর কিংবা গাছতলায়ও ক্লাস নিতে দেখা গেছে শিক্ষকদের যার কারনে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা দিনে দিনে সেশনজটে আটকে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নানাসময়ে সংকট নিরসনের আশ্বাস দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ১০ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৫ টি বিভাগের বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র ২১০ জন্য এবং তার মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।যার ফলে সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ববিয়ানরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন এবং পরিবহন ব্যাবস্থারও বেহাল দশা। শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪ টি আবাসিক হল রয়েছে (২ টি ছেলেদের এবং ২ টি মেয়েদের)। যেখানে প্রতি হলে ৫০০ করে সিট রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। আবাসিক সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই নগন্য (প্রায় ২০%)।
ববির পরিবহন খাতেরও বেহাল দশা।ববির নিজস্ব বাস রয়েছে মাত্র ১১ টি। ১১ টি বাস দিয়ে এত সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক,কর্মকর্তা, কর্মচারী কে পরিবহন সেবা দেওয়াটা দুষ্কর হওয়ায় বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া এনে পরিবহন সেবা প্রদান করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কিন্তু বিআরটিসির বেশিরভাগ বাসই খুব পুরাতন এবং ঝুকিপূর্ণ। কোনাটার ছাদ ফেটে পানি পড়ছে আবার কোনোটার সিট ভাঙা।
কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে ববির পরিবহন সেবা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই নিজস্ব কোনো অডিটোরিয়াম। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি প্রোগ্রাম জেলা শিল্প কলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, অনেক কলেজে যে সুবিধা পায় তারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও সেই সুবিধা পান না।
শুধু শিক্ষক, ক্লাস রুম, আবাসন কিংবা পরিবহন নয়, প্রশাসৈনিক ভাবেও সংকটে দক্ষিণ বঙ্গের এই বিদ্যাপীঠটি। বিশ্ববিদ্যালয়েরটি নেই কোনো উপ উপাচার্য, নেই স্থায়ী রেজিস্ট্রার কিংবা কোষাধ্যক্ষ।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও কোষাধ্যক্ষ দিয়ে ঠেলেঠুলে কাজ চালাচ্ছে ববি প্রশাসন। যার কারনে তৈরি হচ্ছে প্রশাসৈনিক জটিলতা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী গালিব বলেন, প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরোলেও শিক্ষার্থী বাড়ার তুলনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও পরিবহন সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়। আবাসন সংকটে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে, আর শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত পরিবহন সুবিধায় দূরবর্তী শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ প্রশাসনিক কাঠামোয়—রেজিস্ট্রার, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এসব পদে নিয়োগ এবং মৌলিক সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে।
শ্রেনিকক্ষ সংকট ও শিক্ষক সংকট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী চৈতী আক্তার বলেন, আমাদের তিনজন শিক্ষক নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও শিক্ষক সংকটের কারণে সব ব্যাচের ক্লাসের সময়সূচি সমন্বয় করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছেন। প্রত্যেক শিক্ষকের ৬–৭টি করে কোর্স নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা মূল্যায়নের দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় এক ব্যাচের ক্লাস চলাকালে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ উভয় সংকট কিছুটা কমানো গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই একাডেমিক পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, একাডেমি বিল্ডিং-৩ এর প্রোপোজাল ইউজিসি হয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে রয়েছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমরা ইউজিসিতে জানিয়েছি।আবাসন ব্যাবস্থা উন্নয়নের জন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া হবে তবে আগামী ২-৩ বছরে উন্নয়ন করা সম্ভব না,সময় লাগবে।
পরিবহন এর বিষয় তিনি বলেন,আমাদের নতুন বাস কেনার মতো ফান্ড নেই। আমরা নতুন একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স কিনবো।কারন বর্তমানের আমাদের যে অ্যাম্বুলেন্স টি আছে সেটা আধুনিক না।আমরা বিআরটিসি কতৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি তারা যাতে আমাদের একটু ভালো মানের বাস দেয়।তারা বলেছে দিবে, এখন দেখা যাক আমাদের অনুরোধ তারা রাখে কিনা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...