Logo Logo

নিম্নমানের বালি-পাথর বদলিয়ে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অবশেষে ঢালাই


Splash Image

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (বালক) নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের ফাউন্ডেশনের কাস্টিং ঢালাইয়ের কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। নির্মাণসাইট থেকে নিম্নমানের উপাদান অপসারণ করে ভালো মানের ব্ল্যাকস্টোন (কালো পাথর) ও উপযুক্ত বালু সরবরাহের পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঢালাই কার্যক্রম শুরু করা হয়।


বিজ্ঞাপন


শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভবনটির ফাউন্ডেশনের কাস্টিং ঢালাইয়ের কাজ অন্তত আড়াই মাস আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি এবং শর্ত অমান্য করে কাজের শুরুতেই সাইটে নিম্নমানের বালি ও পাথর মজুত করায় প্রকল্পে মারাত্মক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হয়।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনব রায় জানান, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে শুরুতেই ঠিকাদারকে বারবার মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ভবনটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২২ জুলাই নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম নির্মাণাধীন বিদ্যালয় ভবনটি সরেজমিনে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনের সময় সাইটে স্তূপ করে রাখা বালি ও পাথরের অত্যন্ত নিম্নমান দেখে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের আপস না করে অবিলম্বে নিম্নমানের সব সামগ্রী সাইট থেকে অপসারণের এবং কাজ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেন।

সংসদ সদস্যের কঠোর মনোভাব ও প্রকৌশল বিভাগের অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ঠিকাদার সাইটে মজুত রাখা সব অনুপযুক্ত বালি ও পাথর সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে সেখানে অনুমোদিত মানের ব্ল্যাকস্টোন ও উন্নত বালি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে পুনরায় ঢালাই কাজ শুরু হয়।

জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন এ প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ঢাকার দারুস সালাম সাউথ কল্যাণপুর এলাকার ‘মেসার্স মিরণ এন্টারপ্রাইজ’। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ‘মেসার্স ইডেন এন্টারপ্রাইজ’।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...