বিজ্ঞাপন
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নলছিটি-বরিশাল মহাসড়কের খোঁজাখালি এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভুক্তভোগী জমির মালিক, ক্রেতা ও বিক্রেতারা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন ফি এবং মৌজাভিত্তিক নির্ধারিত মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় অনেকে জমি ক্রয়-বিক্রয় ও রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থের চেয়েও দলিল রেজিস্ট্রির খরচ বেশি হওয়ায় নলছিটির বিভিন্ন মৌজায় জমি কেনাবেচা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা।
বক্তব্যে মো. ফেরদৌস খান বলেন, সরকারি বিভিন্ন ফি ও মৌজাভিত্তিক জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জমি কেনাবেচা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে অনেকে জমি বিক্রি করতে চাইলেও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রি খরচের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
মানববন্ধনে ইঞ্জিনিয়ার বাবুল বলেন, সরকার নির্ধারিত জমির মূল্য অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি। এর ফলে জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় মূল্য ও রেজিস্ট্রি মূল্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে। এতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির সংখ্যা কমে গিয়ে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মো. আবজাল মৃধা বলেন, পৌর এলাকায় জমি রেজিস্ট্রির সময় উৎসকর বাবদ প্রতি শতাংশে ১০ হাজার টাকা প্রদান করতে হচ্ছে, যা জমি ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকায় জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতাও যুক্তিসঙ্গত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
বক্তারা জমি রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো, মৌজাভিত্তিক সরকারি নির্ধারিত জমির মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করে বাস্তবসম্মত পর্যায়ে নির্ধারণ, পৌর এলাকায় জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা পুনর্বিবেচনা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে মানববন্ধন ও কর্মসূচি শেষ করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...