Logo Logo

জমি মালিকদের মানববন্ধন

ডোমারে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে ক্ষোভ


Splash Image

নীলফামারীর ডোমারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ ও আপত্তি জানিয়েছেন জমির মালিকরা। তাঁদের অভিযোগ, অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত জমির বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তির আগেই অধিগ্রহণ করা জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।


বিজ্ঞাপন


জমির মালিকদের দাবি, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্তমানে যে জমির বাজারমূল্য প্রতি শতক প্রায় আড়াই লাখ টাকা, সেটি মাত্র ১২ হাজার টাকা দরে অধিগ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, জমির মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে জমি রেজিস্ট্রি না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।

জানা গেছে, ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপ্যানশন প্রকল্পের আওতায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বড় রাউতা এলাকায় পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত জমিগুলো ডোমার পৌরসভার ডোমার-দেবীগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।

জমির মালিকদের দাবি, সড়কের পাশে অবস্থিত এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতক দুই লাখ টাকা বা তারও বেশি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি প্রতি শতাংশ জমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হয়েছে। অথচ সরকারি মূল্যায়নে প্রকৃত বাজারদর প্রতিফলিত না করে প্রতি শতক জমির ক্ষতিপূরণ মাত্র ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁরা পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। বরং উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে প্রয়োজনীয় জমি দিতে তাঁরা প্রস্তুত। তবে তাঁদের দাবি, জমির প্রকৃত বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণের দাবিতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাঁরা আবেদন করেছেন।

জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আব্দুল মজিদ বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের জমির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে শতকপ্রতি ১২ হাজার টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিসি স্যার যে দাম বলেছিলেন, সেটিও আমাদের জমির দামের চেয়ে কম। তারপরও আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে জান দিবো, তবুও জমি দিবো।”

জমির মালিক রুপালী বেগম বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসারে যতটুকু জমি আছে, তার বেশির ভাগই এখানে। বর্তমানে এসব জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর অর্ধেক দাম পেলেও আমাদের সমস্যা হতো না। কিন্তু যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। এখানে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ করে চলব—এটাই আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু জমির ন্যায্য দাম না পেলে অন্য জায়গায় জমি কিনব কীভাবে? আর চাষাবাদ করেই বা কীভাবে সংসার চালাব?”

আরেক জমির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকে অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা শুনতে পাচ্ছি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা চাই, আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য দেওয়া হোক। মামলা নিষ্পত্তি করে তারপর জমি রেজিস্ট্রি করা হোক।”

জমির মালিকরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে জমির প্রকৃত বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করে জমি অধিগ্রহণ করা হলে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই তাঁদের দাবি, বাজারদর পুনর্মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ এবং চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তির পরই জমি রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...