বিজ্ঞাপন
উপজেলা বিএনপির একাংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজাপুর উপজেলা মার্কেট চত্বরে র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করেছে। অপরদিকে একই সময়ে ও একই স্থানে “জুলাই/২৪ বিপ্লব” কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা যুবদল।
উপজেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এইচ. এম. সাইফ আলী খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন।
অন্যদিকে উপজেলা যুবদলের সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন ঝালকাঠি জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রবিউল ইসলাম তুহিন। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান আনিস। সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাছুম বিল্লাহ পারভেজ এবং সঞ্চালনায় থাকবেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ নাজমুল হক।
একই সময় ও স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে কটূক্তি, মন্তব্য ও পোস্ট করছেন। বিএনপির কিছু নেতা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে তাদের কর্মসূচির সময় প্রতিপক্ষ একই স্থানে সমাবেশ দিত, এখন যুবদলও একই কৌশল নিচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছি। পরে শুনলাম একই স্থানে যুবদলও অনুমতি পেয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, মো. জাকির হোসেন মোল্লা যিনি যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়ে চিঠিতে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও আছেন—এটা কীভাবে সম্ভব?”
যুবদল নেতা জাকির হোসেন মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদ সমাবেশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। তিনি মনে করেন, “উভয় পক্ষ আলোচনা করে কর্মসূচি করলে ভালো হতো।”
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ বলেন, “কেউ আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। শুধু অবহিত করেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে।”
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র নির্দেশে দুই গ্রুপকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুর রহমান বলেন, “উপজেলা প্রশাসনকে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কেন অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা তাদের কাছেই জানতে হবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের শঙ্কা, একই সময় ও স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দাঙ্গা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...