Logo Logo

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব রাখার শিক্ষা

৬০ বছরের জীবনের দিন গণনায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ইবনে সামতাহ


Splash Image

আত্মসমালোচনা ও তওবার হৃদয়স্পর্শী ঘটনা, প্রতিকি ছবি।

বিখ্যাত বুজুর্গ তাওবা ইবনে সামতাহ ৬০ বছরের জীবনের দিনগুলো গুনে পাপের ভার উপলব্ধি করেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ইমাম গাজালি এ ঘটনার মাধ্যমে আত্মসমালোচনার গুরুত্ব বোঝান।


বিজ্ঞাপন


জীবনের হিসাব কষে কান্নায় ভেঙে পড়া

ইবনে সামতাহ রিক্কা নগরীতে বসবাস করতেন। তিনি ছিলেন নফস নিয়ন্ত্রণে কঠোর এবং প্রতিটি আমলকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতেন
যখন তার বয়স হলো ৬০ বছর, তখন তিনি নিজের জীবনের দিনগুলো গুনলেন। তিনি দেখলেন, তার জীবনে কেটে গেছে ২১ হাজার ৯১৫ দিন। হিসাব কষে তিনি চিৎকার করে বললেন— “হায় আফসোস! এতগুলো দিন অতিবাহিত হলো, তুমি তোমার রবের সঙ্গে ২১ হাজার ৯১৫টি পাপ নিয়ে সাক্ষাৎ করলে! প্রতিদিন যদি মাত্র দশটি পাপও করে থাকো, তবে এর বোঝা কত ভয়ংকর!

এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি—তিনি মৃত্যুবরণ করেন।প্রতিদিনের পাপের কঠিন উপলব্ধি

মৃত্যুর পর অদৃশ্য থেকে আওয়াজ শোনা গেল—

“হে জান্নাতুল ফিরদাউসের দিকে যাত্রাকারী! তোমার যাত্রা শুভ হোক।”

এই ঘটনা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়,
প্রতিটি দিনই আমলের হিসাবের অংশ। মানুষ হয়তো নিজের পাপ ভুলে যায়, কিন্তু ফেরেশতারা তা অক্ষরে অক্ষরে লিখে রাখেন।

ইমাম গাজালির শিক্ষা: আত্মসমালোচনার গুরুত্ব

ইমাম গাজালি (রাহ.) এ ঘটনা বর্ণনা করে বলেন—
প্রতিটি মানুষের উচিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব করা। অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে সম্পাদিত প্রতিটি পাপের হিসাব একদিন আল্লাহর সামনে দিতে হবে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন
আল্লাহ তাদের (পাপ) গণনা করে রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে।”

(সূরা মুজাদালাহ, আয়াত ৬)</q>

ফেরেশতারা রাখছেন প্রতিটি আমলের হিসাব

এই ঘটনাটি উল্লেখ আছে ইমাম ইবনু আবিদদুনিয়ার লিখিত ‘আত্মবিচার’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১২৯)। এর বাংলা অনুবাদ করেছেন আবু বকর সিরাজী।

এটি আমাদের শিখিয়ে দেয়— জীবন কেবল সময়ের অতিক্রম নয়, বরং প্রতিটি ক্ষণই আল্লাহর কাছে আমল হিসেবে জমা হচ্ছে। তাই আত্মসমালোচনা, তওবা ও আল্লাহর ভয়ে কাঁদাই একজন মুমিনের জীবনের মূল শক্তি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...