বিজ্ঞাপন
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির পরিত্যক্ত অংশে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত চর্বি ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে। এছাড়া পোলট্রি খামারে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ সরাসরি মাছের দেহে জমা হয়। ফলে এসব মাছ খেলে মানুষের শরীরে নিম্নোক্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
* অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স: শরীরে ওষুধ কার্যকারিতা হারানো।
* লিভার ও কিডনি জটিলতা: রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস।
* হজমজনিত সমস্যা: নিয়মিত খাওয়ার ফলে পেটের অসুখ ও দীর্ঘমেয়াদী বদহজম।
* বিশেষ ঝুঁকি: শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক।
স্থানীয় বাজারের ক্রেতাদের অভিযোগ, বর্তমানের পাঙ্গাশ মাছ দেখতে বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও বড় হলেও এর স্বাদ আগের মতো নেই। রান্নার সময় মাছ থেকে অস্বাভাবিক চর্বি বের হওয়া এবং এক ধরনের দুর্গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন অনেকে। এর ফলে পাঙ্গাশ মাছের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা কমতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ মৎস্য কর্মকর্তা ভোরের বাণী-কে জানান, “নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক ফিড বা সুষম খাবার বাদ দিয়ে পোলট্রি বর্জ্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনিরাপদ ও আইনত দণ্ডনীয়। এটি শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং পুকুরের পরিবেশ ও পানির গুণাগুণও নষ্ট করে দেয়।”
মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংকট উত্তরণে অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের সুপারিশসমূহ হলো: ১. মাছের খামারগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ও নজরদারি জোরদার করা। ২. অসাধু চাষিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। ৩. নিরাপদ ও অনুমোদিত ফিশ ফিড ব্যবহারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো।
জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। নিরাপদ মৎস্য চাষ নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অন্যতম লাভজনক এই মৎস্য খাত সংকটে পড়তে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...