বিজ্ঞাপন
আজ সকালে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ কারাগারে থাকা ২৩ আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, গত ১৪ জানুয়ারি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আজ ১৯ জানুয়ারি চার্জগঠনের দিন নির্ধারিত ছিল। আদালত শুনানি শেষে ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাঁর অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অনুসারীদের প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হলে তারা পুলিশ ও আদালত ভবনে হামলা চালায়।
একই ধারাবাহিকতায় আদালত প্রাঙ্গণের প্রবেশপথে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও রড দিয়ে তাঁর শরীরে নির্মমভাবে আঘাত করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিফের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের দুটি গভীর কোপসহ শরীরে মোট ২৬টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ১ জুন আদালতে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে প্রাথমিক এজাহারের তিনজনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ নতুন ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত বছরের ২৫ আগস্ট আদালত এই চার্জশিট গ্রহণ করেন।
মামলার তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ অকাট্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন কারাগারে থাকলেও ১৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...